, || ||

আ. লীগ-বিএনপির যৌথ সিন্ডিকেটে চকরিয়ায় চলছে অবৈধ বালু বাণিজ্য

আ. লীগ-বিএনপির যৌথ সিন্ডিকেটে চকরিয়ায় চলছে অবৈধ বালু বাণিজ্য

কক্সবাজার : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে ড্রেজার ও স্যালু মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি বিটের আওতাধীন পিয়াইজ্জা কাটা খালসহ আশপাশের বিভিন্ন ছড়া ও খাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে পরিবেশবিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগরপাড়া এলাকার ছড়া খাল এবং পিয়াইজ্জা কাটা খাল থেকে প্রতিদিন শত শত ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবদুর রশীদ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে কয়েকটি প্রভাবশালী মহল এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় যৌথভাবে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে খালপাড়ের মাটি ধসে পড়ছে এবং আশপাশের চলাচলের রাস্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত বনভূমিও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, এলাকাবাসী বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে প্রতিবাদকারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুটাখালী খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু ট্রাক ও ডাম্পারে করে খুটাখালী ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে মজুদ করা হয়। পরে সেখান থেকে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি মাসে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক বালু উত্তোলন করা হয়। প্রতিটি ট্রাক বালু পাইকারিতে বিক্রি হয় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়। সেই হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ বালু বাণিজ্য চলছে খুটাখালী এলাকায়। অথচ প্রশাসন, বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন, বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, চকরিয়ার মাতামুহুরী নদী, খুটাখালী খাল সহ উপজেলার শতাধিক অবৈধ বালুর পয়েন্টে প্রশাসনের অভিযানের ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর না হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুরুতে অভিযানের ঘোষণায় স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বর্তমানে বালুদস্যুদের দৌরাত্ম্যে আবারও আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/জেএফজে/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন