কক্সবাজার : অপহরণের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তিন দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়, চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন ভুক্তোভোগী কক্সবাজারের শালিক রেস্তোরাঁর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মুজিবুর রহমান।
গত ১৬ মে রাতে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কক্সবাজার কলাতলি এলাকার শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দিনকে। শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হয়েছে।
মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- কক্সবাজার পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, নাসির স্ত্রী লাভলী আক্তার, হেলাল উদ্দিন, মো. মনির, মেহেদী হাসান শাওন, তৌফিক হাসান ও হিমেল।

শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নং-১৬, জিআর-৯৭, তারিখ ১৬ মে ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩২৮, ৩৭৯, ১০৯ ও ৩৪ ধারাসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে মুজিবুর রহমানকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের গার্মেন্টস গলি এলাকার মেট্রো গার্ডেন ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মে রাত ১০টা থেকে ১০ মে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে লোহার রড, লাঠিসোটা ও কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন তিনি।
মামলার বর্ণনায় বলা হয়েছে, আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে প্রধান আসামির ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবেও টাকা পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় এবং তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগও করা হয়েছে।মামলায় উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মুজিবুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তার স্ত্রী একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে প্রধান আসামির নম্বরে ফোন করলে তার কাছেও ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একইভাবে ভুক্তভোগীর ভাই যোগাযোগ করলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক আসামি কয়েক দফায় ভুক্তভোগীর শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করে তাকে অচেতন অবস্থায় নির্যাতন চালায়। একইসঙ্গে কক্সবাজারে অবস্থানরত কয়েকজন আসামি ভুক্তভোগীর পরিবারের গতিবিধি নজরদারি ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তৎপরতা শুরু হলে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর আসামিরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেয়। পরে তাকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে কক্সবাজারগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
কক্সবাজার পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস



