, || ||

মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত সেলিনা বেগম বাঁচতে চান

মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত সেলিনা বেগম বাঁচতে চান

সাতক্ষীরা: মৃত্যু অবধারিত, কিন্তু চিকিৎসার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়া এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকায় বিগত পাঁচ বছর ধরে মরণব্যাধি স্তন (ব্রেস্ট) ক্যান্সারের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হতদরিদ্র গৃহবধূ সেলিনা বেগম (৫২)।

ক্যান্সারের তীব্র যন্ত্রণার চেয়েও এখন তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছে পরিবারের অসহায়ত্ব ও চিকিৎসার খরচের চিন্তা। বাঁচতে চান তিনি, নিজের জন্য নয়—সন্তানদের মাথায় হাত রেখে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার আকুল আকুতি এই মায়ের।

​পাটকেলঘাটা এলাকার দিনমজুর কৃষক মুনসুর খার স্ত্রী সেলিনা বেগম। পৈত্রিক ভিটে ও স্বামীর পরিবার—দুই পক্ষই চরম দরিদ্র হওয়ায় নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে এবং দুই সন্তানকে মানুষ করতে অন্যের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন তিনি। দিন এনে দিন খাওয়া এই পরিবারটিতে কষ্ট ছিল, কিন্তু সুখের কমতি ছিল না।

তবে পাঁচ বছর আগে যখন মরণব্যাধি ক্যান্সার থাবা বসাল, তখন নিভে গেল সব আলোর প্রদীপ। অসুস্থতার কারণে কাজের ক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক আগেই। বর্তমানে স্থানীয় সদয় মানুষের সামান্য সাহায্য-সহযোগিতায় কোনো রকমে দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছে পরিবারটি।

​সেলিনার স্বামী মুনসুর খাঁ চোখের জল মুছতে মুছতে জানান, জমানো সামান্য সঞ্চয়, সহায়-সম্বল—সব বিক্রি করে গত পাঁচ বছর ধরে স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে বসতভিটার মাত্র তিন শতক জমি ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সরকারি সহায়তার আশায় সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করেও মেলেনি কোনো সাড়া, যদিও আশা না ছেড়ে আবারও সমাজসেবা অফিসে ধর্ণা দিয়েছেন তারা।

​বর্তমানে সেলিনা বেগম ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জাফর মোহাম্মদ মাসুদ-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে দ্রুত কেমোথেরাপি ও একটি জটিল অস্ত্রোপচার (অপারেশন) প্রয়োজন, যার খরচ অত্যন্ত চড়া। হতদরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা এক অসম্ভব কল্পনা মাত্র।

​একদিকে ক্যান্সারের অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে অর্থাভাবে থমকে যাওয়া চিকিৎসা—সব মিলিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সেলিনা বেগম। সহায়-সম্বলহীন এই পরিবারটি বাধ্য হয়ে আজ দেশের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের দ্বারে হাত বাড়িয়েছে। আজ মনে পড়ে যায় মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?

​আপনার সামান্য বাচ্ছিক সাহায্য, কিংবা এক ফোঁটা ভালোবাসা বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখাতে পারে দুই সন্তানের জননী সেলিনা বেগমকে। আসুন, মানবতার এই পরীক্ষায় আমরা সবাই সেলিনা বেগমের পাশে দাঁড়াই। আমাদের সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় হয়তো একটি জীবন বেঁচে যেতে পারে, একটি পরিবার ফিরে পেতে পারে তাদের হাসিমুখ।

সাহায্য পাঠাতে ও বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বিকাশ নম্বর: ০১৭৩২-৫০০০৪২ (রোগীর পরিবারের ব্যক্তিগত নম্বর)

আব্দুল মোমিন/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন