সাতক্ষীরা: দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে অবশেষে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ভারতীয় কাঁচা মরিচের আমদানি। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই দিনে মোট ৫৫৮ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ দেশে এসে পৌঁছেছে।
এর মধ্যে কেবল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) একদিনেই ভারত থেকে প্রবেশ করেছে ৪৬৭ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচের বিশাল চালান। এর আগে গত সোমবার একই বন্দর দিয়ে আরও ৯১ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ দেশে এসেছিল। আমদানির এই খবর বাজারে ছড়াতেই রেকর্ড হারে কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ৩৯টি ট্রাকে করে ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ৯ থেকে ১১ টন করে মরিচ ছিল। কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে এসব মরিচ রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ও খুচরা বাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভোমরা কাস্টমস স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে পণ্য খালাস ও সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে বাজারে দ্রুত সরবরাহ বাড়ে।
আমদানি শুরুর পরপরই স্থানীয় ও পাইকারি বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দু’দিন আগেও দেশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছিল কেজি প্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। ভারতীয় মরিচ আসার খবরে সাতক্ষীরা পাইকারি বাজারে দাম কমে ২০০-২২০ টাকায় নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারে দুদিনের ব্যবধানে দেশীয় কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। গত সোমবার সাতক্ষীরায় খুচরা বাজারে যে মরিচ ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, বুধবার তা ২৪০ থেকে ২৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাটকেলঘাটার খুচরা ব্যবসায়ী ইয়াছিন মোড়ল বলেন, “আড়ত থেকে ২২০ টাকায় কিনে ২৪৫ টাকায় বিক্রি করছি। ভারতীয় মরিচ আসায় বাজারে দেশি মরিচের ওপর চাপ কমেছে। সরবরাহ যত বাড়বে, দাম আরও কমবে।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক সাদ্দাম হোসেন জানান, আমদানির অনুমতি (আইপি) পাওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে দেশে মরিচ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম চালানেই তিনি ১০ ট্রাক মরিচ এনেছেন। বাজারের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দু-একদিনের মধ্যেই কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের পুরোপুরি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসায় বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। পর্যাপ্ত আমদানি অব্যাহত থাকলে দু-একদিনের মধ্যেই বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে আসবে।
এদিকে বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ দেখা গেছে। ক্রেতা হাবিব বলেন, দুইদিন যে মরিচ ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনেছি, আজ সেটি ২৪০ টাকায় পেয়েছি।
গৃহিণী রমিছা খাতুন বলেন, “মরিচের অতিরিক্ত দামে সংসারের বাজেট এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। দাম কমতে শুরু করায় বড় স্বস্তি পেলাম।
ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানিকৃত এই চালানগুলো দেশের জেলাগুলোতে পৌঁছে গেলে চলতি সপ্তাহেই কাঁচা মরিচের বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাবে।
আব্দুল মোমিন/এএস



