চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি ও তালিকা প্রণয়নকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রদল। বুধবার(১২) আগষ্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে তালা দেয়া দেয়ার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপকারভোগী বাছাই ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত যোগ্য পরিবারগুলো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
দামুড়হুদা উপজেলার কড়ুইগাছি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মারাত্মক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়ায় দোষারোপ করে বলেন অবিলম্বে ঘোষিত এ বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ফল প্রকাশের দাবি জানান।

একই সাথে কড়ুইগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে এ ঘটনার জবাবদিহিতা দাবি করেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন জালিয়াতি ও বাণিজ্য নিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষ ও বঞ্চিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা
এ ঘটনায় কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেন মেনে নেওয়া হবে না।
স্থানীয়রা জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান তারা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগগুলোর সত্যতা, কারা অর্থ লেনদেনে জড়িত এবং তালা দেওয়ার ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—তা প্রশাসনিক তদন্তে পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও দামুড়হুদায় টিসিবির কার্ড তৈরিতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এআরডি/এএস



