, || ||

আপনার প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যেভাবে 

আপনার প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যেভাবে 

ঢাকা: ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগের। বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে, পতাকা উড়িয়ে বা বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা।

কিন্তু সেই দলটিই যদি হেরে যায়? তখন যেন মনটাও হেরে বসে। কারও খাওয়া-দাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ম্যাচের হাইলাইটস দেখে আক্ষেপ করেন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ যখন কোনো দলকে সমর্থন করে, তখন সেই দলের সঙ্গে এক ধরনের আবেগীয় বন্ধন তৈরি হয়। ফলে দলের জয় যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি হার হতাশাও তৈরি করে।

তবে মনে রাখতে হবে- ফুটবল আনন্দের জন্য, কষ্টে ডুবে থাকার জন্য নয়। তাই প্রিয় দল হেরে গেলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসাটাও জরুরি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার কয়েকটি সহজ উপায়ঃ

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটু দূরে থাকুন
দল হারার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম, ট্রল বা খোঁচা দেওয়া পোস্টের বন্যা বয়ে যায়। এমন সময় বারবার সেসব পোস্ট দেখলে হতাশা আরও বাড়তে পারে। তাই কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন। ফোন নামিয়ে রেখে বই পড়ুন, গান শুনুন বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। দেখবেন মন অনেকটাই হালকা লাগছে।

ম্যাচের ভালো দিকগুলো মনে করুন
হারের পর আমরা সাধারণত ভুল, মিস করা সুযোগ বা খারাপ মুহূর্তগুলো নিয়েই ভাবতে থাকি। কিন্তু পুরো ম্যাচে নিশ্চয়ই কিছু ভালো মুহূর্তও ছিল। হয়তো আপনার প্রিয় খেলোয়াড় অসাধারণ একটি পাস দিয়েছেন, গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেছেন কিংবা দলটি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে। শুধু নেতিবাচক দিক নয়, ইতিবাচক দিকগুলোও মনে করার চেষ্টা করুন।

নিজেকে কিছুটা সময় দিন
আপনি যদি সত্যিই দলটিকে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে বরং মেনে নিন। কিছু সময় চুপচাপ থাকুন, নিজের মতো করে ভাবুন। একদিনের জন্য মন খারাপ থাকলে সেটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। আবেগকে সময় দিলে তা ধীরে ধীরে কমে আসে। তাই ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চাপ নেবেন না।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন
মন খারাপের সবচেয়ে ভালো ওষুধগুলোর একটি হলো আড্ডা। আপনার বন্ধুরাও যদি একই দলের সমর্থক হন, তাহলে একসঙ্গে হতাশা ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে। আর যদি প্রতিপক্ষ দলের সমর্থক বন্ধুরা খোঁচা দেন, সেটাকেও হাস্যরসের অংশ হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করুন। ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বন্ধুত্ব নষ্ট করার জন্য নয়; বরং সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করার জন্য।

অন্য কোনো কাজে মন দিন
খেলা শেষ, এখন জীবনের বাকি অংশও তো আছে। রান্না করা, সিনেমা দেখা, বই পড়া, হাঁটতে বের হওয়া কিংবা প্রিয় কোনো শখের কাজে সময় দিন। মস্তিষ্ক যখন নতুন কোনো কাজে ব্যস্ত হয়, তখন হতাশার অনুভূতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই বারবার ম্যাচের কথা ভেবে মন খারাপ না করে নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন।

পরের স্বপ্নের জন্য অপেক্ষা করুন
একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় পাশে থাকেন না, হারের সময়ও দলকে সমর্থন করেন। ফুটবলের প্রতিটি শেষই আবার নতুন শুরুর সম্ভাবনা তৈরি করে। হয়তো এবার আপনার দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, কিন্তু সামনে আরও টুর্নামেন্ট আছে, নতুন ম্যাচ আছে, নতুন স্বপ্ন আছে। একজন সমর্থকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আশা হারিয়ে না ফেলা।

মনে রাখুন, এটি একটি খেলা
খেলা মানেই জয়-পরাজয় দুটোই আছে। আজ যে দল জিতেছে, কাল তারাও হারতে পারে। ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোকেও কোনো না কোনো সময় বিদায় নিতে হয়েছে। প্রিয় দল হেরে গেলে নিজেকে মনে করিয়ে দিন-এটি জীবনের একটি অংশ নয়। খেলার ফলাফল আপনার ব্যক্তিগত সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে না।

প্রিয় দলের জয় নিঃসন্দেহে আনন্দের। তাই প্রিয় দল হেরে গেলে কিছুটা মন খারাপ হতেই পারে। কিন্তু সেই কষ্টকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বানাবেন না। কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত একটি খেলা, আর খেলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-হারের পরও আবার উঠে দাঁড়ানো।

যেএফজে

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন