চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী দর্শনা কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির আরেক সহপাঠীর বিরুদ্ধে। স্কুল চলাকালে গোপনে নির্জনে ওই শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি ও মারপিট করার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় কয়েক হাজার হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ ৩ হাজার টাকা চাওয়ার পর বিষয়টি পরিবারের কাছে জানাজানি হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়ে বহিষ্কার করেছে। গত সোমবার দুপুরে কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই পক্ষের অভিভাবক, শ্রেণিশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া স্কুল কতৃপক্ষ।
জানা গেছে, দর্শনা পৌর এলাকার আনোয়ারপুরের বাসিন্দা ও প্রবাসী জামাল হোসেনের ছেলে ফারহান আব্দুল্লাহ (১০) কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত এক মাস ধরে তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সে বিষণ্ণ থাকত এবং তার মধ্যে ভয়ভীতি লক্ষ করতে পরিবারের সদস্যরা।

গত রবিবার বাড়ির আলমারিতে রাখা নগদ ৩ হাজার টাকা খুঁজে না পেয়ে ফারহানের মা সুমাইয়া আক্তার ছেলেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। প্রথমে ভয়ে ফারহান কোনো কথা বলতে না চাইলেও পরে মাকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে সে।
ফারহানের ভাষ্য, একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী একই এলাকার লাভলুর ছেলে আয়নাল হক নূর (১৪) প্রায়ই তাকে স্কুল চলাকালে ডেকে একটি কক্ষে নিয়ে যেত। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিদিন টাকা নিয়ে আসতে বলত। টাকা না দিলে তাকে হত্যার পাশাপাশি আঙুল ভেঙে দেয়ার হুমকিও দেয়া হতো।
ফারহান পরিবারের সদস্যদের জানায়, বিষয়টি কাউকে বললে তাকে খুন করা হবে এমন হুমকিও দেয়া হয়েছিল। এ কারণে সে ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক মাসে কয়েক দফায় বাড়ি থেকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকা করে নিয়ে গিয়ে নূরকে দিয়েছে সে। গত রবিবার আবার ৩ হাজার টাকা চাওয়া হলে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে যায় ফারহান।
পরদিন সোমবার ফারহান বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে জানায়। বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষক দ্রুত দুই পক্ষের অভিভাবক, শ্রেণিশিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে ঘটনার বিষয়ে কথা বলা হয় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আয়নাল হক নূরকে টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ফারহান আব্দুল্লাহর বাবা প্রবাসী জামাল হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার ছেলে বেশ কিছুদিন ধরে ভয় ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। পরে বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
শ্রেণিশিক্ষক রমজান আলী বলেন, আয়নাল হক নূর এর আগে বিভিন্ন শ্রেণিতে দুইবার করে ফেল করেছে। বর্তমানে সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। স্কুল চলাকালে ফারহান তার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। তবে যে ঘটনা ঘটেছে, তা গুরুতর অন্যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের ডেকে ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বয়স কম হওয়ায় তাকে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে এ ধরনের অপরাধকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকদের দাবী, শিক্ষার্থীদের বয়স কম হলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে সহপাঠীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের মতো ঘটনা অপরাধের শামিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারটা খুবই জরুরী হএ পড়েছে। ট্যাঁ না হলে ভবিষ্যতেও এম ধরণের পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে।
এআর/জেএন



