চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক বিপর্যয় হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১জন। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখায় শিক্ষক রয়েছেন ১৫ জন।
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের ঘোষিত ফলাফল প্রকাশের পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন চিত্র সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজটি থেকে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ফলাফলে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ জন শিক্ষকসহ ২২জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এতসংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল কেন?তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং কলেজের একাডেমিক তদারকি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিভাবকেরা মনে করেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর পিছনে একজন শিক্ষক থাকা শর্তেও কেন অকৃতকার্য হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন?
স্হানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার কারণে শিক্ষার মান তলানিতে নেমেছে।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়?
তিনিব্ল আরও বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। শুধু শিক্ষক থাকলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ ইমরুল কাদির বলেন,এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগী এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণী কক্ষে শিক্ষক সংকটও রয়েছে।উচ্চতর গনিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিলো। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল আর না হয়,সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।
এআরডি



