ঢাকা: চব্বিসের জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার খবর প্রচার করা টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে তার সঙ্গে সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের কথোপকথনের একটি নতুন কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত সরকারের কথা না শুনলে টেলিভিশন বন্ধের হুমকি সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ উপস্থাপন করা হবে।

ফোনালাপ
ওবায়দুল কাদের: এই যে যারা কথা শোনে না, টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা…
আরাফাত: ওই যে অফ করে দিছি গতকাল দুই একটা। আজকেও বলে রাখছি যেগুলো শুনবেন না অফ করে দিতে সাথে সাথে।
ওবায়দুল কাদের: আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।
আরাফাত: আজকে ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অফ দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব……।
আর ওই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বসা রাখছি যে, আপনি কন্সট্যান্টলি দেখবেন যে, টিভি সংঘর্ষের ছবি দেখাবে সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোন পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম আর উইদাউট মাই পারমিশন এটা অন করবেন না, আর এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে মামলাটির বিচার চলছে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত ৪ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। ৬ আগস্ট দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার তৃতীয় দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের দমন করতে যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। নতুন কল রেকর্ডকে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আরপি/এএস



