রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

টাকা চুরির অভিযোগ তুলে নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে পিটিয়ে হত্যা

টাকা চুরির অভিযোগ তুলে নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে পিটিয়ে হত্যা

টাকা চুরির অভিযোগ তুলে নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে পিটিয়ে ৩তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে ইসলামনগরের একটি তিন তলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আজমুল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বড়শলুয়া গ্রামের কুতুবউদ্দিনের ছেলে ও খুলনার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর চুরির অভিযোগে তাকে পেটানো হয় বলে তথ্য ছড়ানো হয়। আজমুল নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পরে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মৃত্যু হয়। তাকে যারা হাসপাতালে নিয়ে যায় মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তবে, পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড় টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা কর্তৃপক্ষকে জানান, আজমল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, আজমলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা তার মৃত্যুর পর দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। মৃত আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ কারণে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন আজমলকে হাসপাতালে আনে। তাদের দাবি চুরি করে পালানোর সময় লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হন আজমল। আজমলকে মৃত ঘোষণা করলে শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মৃতের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আজমলকে হাসপাতালে আনার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কথা জানার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে আজমলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে বিভিন্ন দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব আলামতকে ঘিরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পাশের বাড়ির মালিক আবু বকর জানান, অভিযুক্তরা খুবির সাবেক শিক্ষার্থী, ঘটনার পর তারা রুমে তালা দিয়ে পালিয়েছে। নিহত আজমলকে ছাদে নিয়ে নির্যাতন করে ফেলে দেওয়া হয়। আজমল নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। সে পাশের একটা রুমে থাকতো।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন,আ মাদের একটি টিম ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য সামনে এলে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

এটিএস/জেএফজে

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন