মৃত্যুর ১২ বছর পর মামলায় আসামি হলেন চট্টগ্রামের প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরী। বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়িতে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় কে আসামি করার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বাঁশখালী) আদালতে পারভীন আক্তার (জখমী) নামের ৪০ বছর বয়ষ্ক এক নারী একটি নালিশী দরখাস্ত দাখিল করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের নামে নালিশী দরখাস্তটি দাখিল করেন।
মামলার আসামির তালিকায় ১৩ নম্বরে রয়েছে সুলতানুল কবির চৌধুরী (৫৫) পিতা মৃত ফজুল কবির চৌধুরী’র নাম। অথচ সাবেক এই সংসদ সদস্য আজ থেকে ১২ বছর আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন।

এই বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি ও সুলতান-উল-কবির চৌধুরীর ভাতিজা ইয়াসিন আরাফাত চৌধুরী (৪৫) জানান, আমার জেঠা মারা গেছেন ১৩ বছর আগে। তাকেও আসামি করাটা হাস্যকর। আর মামলার যে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ওই সময় আমি ছিলাম শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে।
মামলার নথিতে দেখা যায়, আসামিদের তালিকায় সুলতান উল কবির চৌধুরীর নাম রয়েছে। নথিতে তার নামের পাশে বয়সও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পুঁইছড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা করা হয়। ওই মামলার আসামিদের তালিকায় প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে নথিতে দেখা যাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে তার মৃত্যুর বিষয়টি ঘিরে।
সুলতান-উল-কবির চৌধুরী ২০১৪ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার প্রায় ১২ বছর তিন মাস আগে তিনি মারা যান। ফলে মৃত্যুর একযুগ পর সংঘটিত একটি ঘটনার মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজন প্রশ্ন তুলেছেন।
অনেকেই মামলার এজাহারে প্রয়াত সাবেক এমপির নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলার এজাহার প্রণয়ন ও আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে মামলার কপি এখনও থানায় আসেনি, আসার পর দেখা যাবে কী করা যায়।
চৌধুরী রেদোয়ান/জেএন



