, || ||

৬৫ বছরের বৃদ্ধার পোশাকে মিলল ১০ লাখ টাকার হেরোইন

৬৫ বছরের বৃদ্ধার পোশাকে মিলল ১০ লাখ টাকার হেরোইন

বয়স ৬৫ বছরের বৃদ্ধা মাসুমা খাতুন (৬৫) যশোর থেকে বাসে করে ঢাকায় আসছিলেন এক নারী। যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোল চত্বরে বাস থামিয়ে ওই বৃদ্ধাকে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে এলো ১০০ গ্রাম হেরোইন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী দাবি করেন, মেয়ের চাপ ও নির্দেশনাতেই তিনি হেরোইনের চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। এমনকি এর আগেও একইভাবে আরও দুইবার হেরোইন বহন করেছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ) মোস্তাক আহমেদ।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুমা খাতুন (৬৫) নামে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসে করে এক নারী হেরোইনের চালান নিয়ে ঢাকায় আসছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি রেইডিং পার্টি ধোলাইপাড় গোল চত্বরে অবস্থান নেয়।

সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে ধোলাইপাড় গোল চত্বরের সামনে বাসটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের মাঝের আসনে বসা সন্দেহভাজন নারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় মাসুমা খাতুন (৬৫) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কাছে হেরোইন থাকার বিষয়টি জানা গেলে টিমের নারী সদস্যদের সহায়তায় তার পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পলিব্যাগের ভেতরে ১০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমা খাতুন জানান, তিনি যশোর থেকে হেরোইনের চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। তার দাবি, তার মেয়ে তাহমিনা তাকে বিভিন্নভাবে মাদক পরিবহনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং মেয়ের নির্দেশনাতেই তিনি হেরোইনটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তিনি একইভাবে আরও দুইবার হেরোইন বহন করেছিলেন।

ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাহমিনার যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি আরও তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তাহমিনার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান রয়েছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক নারী বা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের কৌশল কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের পরিকল্পিত পদ্ধতি কি না, মাদকের উৎস ও গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাসুমা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরপি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন