, || ||

এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিবের পদত্যাগ

এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিবের পদত্যাগ

ঢাকা : দলের সাথে নিজের আদর্শের মিল এবং কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব পদ এবং এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর।

গতকাল রোববার সরদার আমিরুল ইসলাম সাগরের পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। তবে তিনি জানান, আরো বেশ কয়েকদিন আগেই পদত্যাগপত্র জমা দেন। কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় থাকে। অবশেষে গতকাল তার পদত্যাগের ঘটনা জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ দুই মাস ধরেই ভাবছিলাম পদত্যাগ করার কথা। অবশেষে কয়েকদিন আগে পদত্যাগপত্র জমা দেই কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। তারা বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু বিষয়টা এভাবে ঝুলে থাকায় অস্বস্তি হচ্ছিলো। তাই আজ (রবিবার) জানিয়ে দেই কয়েকজনকে।’

পদগের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখানে আসলে কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল। আমি নিজের মত কাজ করতে পারছিলাম না। তাই দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপি ও ঢাকা উত্তর শাখায় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের গুঞ্জন শোনা যায়। ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম সাগর নির্বাচনকালীন সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

সে সময়ে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কেন্দ্র থেকে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই টাকার সঠিক খরচ করেননি এবং খরচের হিসাব সঠিকভাবে দেননি বলে অভিযোগ করেন ঢাকা উত্তর এনসিপির কয়েকজন নেতা।

এনসিপি ঢাকা উত্তরের নেতা নূর আমিন খান বলেন, ‘আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছিল আমাদের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে। এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে আমাদের সাধারণ সভায় এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। বরং একটি গোজামিল হিসাব দেওয়া হয় যেখানে তিনি আমাকে টাকা দেওয়ার কথা বলেন। অথচ তিনি আমাকে কোনো টাকা দেননি। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে।’

এ বিষয়ে সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আর্থিক অভিযোগ ওঠার বিষয়টি সম্পূর্ণ অসত্য। এসব বিষয়ে ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ অবান্তর।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ উঠেছিল বলে শুনেছি। আমিরুল ইসলাম সাগরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর থেকেই তাকে দলীয় কোনো কার্যক্রমে পাওয়া যায়নি।’

আমিরুল ইসলাম সাগর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বহিষ্কার হন। তবে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে সাগরকে সংগঠনে ফিরিয়ে নেয় ছাত্রদল।

পিএস/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন