ঢাকা : আর কদিন পরেই মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব কুরবানি ঈদ। আর এই কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু চক্র।
বাজারে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দফায় দফায় বাড়ছে সব পণ্যের দাম। ইতোমধ্যে পোলাওর চাল কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেজি ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। কেজিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অস্থির ভোজ্যতেলের বাজারও। পাশাপাশি দুধ, চিনি, সেমাই, কিশমিশসহ মসলাপণ্যের মূল্যও বেড়ে চলেছে। কুরবানির ঈদ উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নাকাল অবস্থায় পড়তে যাচ্ছেন ভোক্তা। তাদের ঠকানোর সব রাস্তা তৈরি করছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

মুসলিম পরিবারে ঈদ এলে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করতে বাড়তি কেনাকাটা করেন সবাই। প্রতিবছর এ বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করেই বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু ব্যবসায়ীচক্র। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতা সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, প্রতিকেজি পোলাওর চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। যা দুই মাস আগে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায়। যা দুই মাস আগে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। দুই মাস আগেও কেজি ছিল ১০০ টাকা। প্রতিকেজি আলুবোখারা বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়, যা দুই মাস আগে ছিল ৫০০ টাকা। প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ টাকা, যা আগে ৪৩০০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকায়, যা আগে ১২০০-১২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মাংসের মধ্যে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি খাসির মাংস ১২০০ টাকা।
নিত্যপণ্য কিনতে আসা রইসুল ইসলাম বলেন, বাজারে স্বস্তি নেই। বছরের একেক সময় একেক অজুহাতে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল করে তোলে। রোজা থেকে শুরু করে রোজার ঈদ এমনকি কুরবানির ঈদ এলে বিক্রেতারা অতিমুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
এছাড়া যে কোনো ধর্মীয় উৎসবেও বিক্রেতা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাকে ঠকায়। এবার কুরবানির ঈদের আগেই একাধিক পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক প্রকার নিশ্চুপ তদারকি সংস্থা।
খুচরা বাজার ঘুরে আরও জানা গেছে, বাজারে গুঁড়োদুধের মধ্যে প্রতিকেজি ডানো গুঁড়োদুধ ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকা, ফ্রেশ দুধ ৮৯০ টাকা ও মার্কস দুধ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা আগে ৪৫ টাকা ছিল। ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত চিকন সেমাই ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। প্রতিকেজি দেশি রসুন ১৪০ ও আমদানি ২২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। আদা কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, কুরবানির ঈদ ঘিরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বাজারে তদারকি অব্যাহত রেখেছে। রাজধানী ও প্রতিটি বিভাগীয় অফিস থেকেও কর্মকর্তারা বাজারে কঠোরভাবে তদারকি করছেন। অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রোজা-ঈদসহ কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এলে দেশে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও একই চিত্র। ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে যে আইন আছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে ভোক্তা কিছুটা হলেও সুফল পাবেন।
সাঈদ তরফদার /এনডি/এএস



