রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সর্বহারা পাটির নামে চাঁদা চেয়ে দর্শনায় ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চিঠি

সর্বহারা পাটির নামে চাঁদা চেয়ে দর্শনায় ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চিঠি

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী বাজারে ‘সর্বহারা’ পার্টির নামে চাঁদা দাবি করে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের নামে ‘বেনামি চিঠি’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে থানা পুলিশ। তবে আবার আবার কেও কেও চাঁদাদাবির চিঠির বিষয়টি কাউকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র বলেও মনে করছেন।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানাধীন হিজলগাড়ী বাজারের ফাতেমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শেখ রাসেল স্টোর ও মেসার্স মালিথা ট্রেডার্স নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেগমপুর পোস্ট অফিসের পোস্টমাষ্টার প্রেরকের ঠিকানা না থাকলেও প্রাপকের নিকট চিঠিগুলো পৌছে দেয়।

প্রাপকেরা চিঠি খুলে দেখেন ‘সর্বহারা’ পার্টির নামে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। যেখানে ফাতেমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিকট ২০ লাখ, শেখ রাসেল স্টোরে ২০ লাখ ও মেসার্স মালিথা ট্রেডার্সের নিকট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে পাটির পক্ষ থেকে চাঁদার টাকা নলবিলা গ্রামের জনৈক সাব্বির আহম্মেদ শিমুলের নিকট জমা দিতে বলা হয়েছে। যার কারণে অনেকের মনেই সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিঠিটি কারা পাঠিয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেনামি চিঠির বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভীতির পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ, নাকি কাউকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা, না কি কাউকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

এদিকে যারা চিঠি পেয়েছেন তারা জানিয়েছেন, চিঠিগুলো পুলিশ প্রশাসনের লোকজন নিয়ে গেছে। আবার কেউ দর্শনা থানায় জিডিও করেছেন।

হিজলগাড়ী বাজার কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও কোষাধক্ষ্য আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে চিঠিতে যার নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে সে এই ধরণের ছেলেই না। বিষয়টি আমাদের কাছে বিশ্বাস যোগ্য মনে হচ্ছে না। এটা কোন ষড়যন্ত্র করে কাউকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজি নুরুল আমির বলেন, দুপুরের দিকে ফাতেমা ডায়াগনিস্টেকের স্বাত্তাধিকারি মজ্ঞুরুল আমাকে ফোনে জানিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটায় আমার প্রত্যাশা।

এব্যাপারে চিঠিতে নাম থাকা সাব্বির আহম্মেদ শিমুল বলেন, আমি বেলা ২টার দিকে জানতে পেরেছি। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমি তো হতবাক। কাশেম মালিথা আমার চাচাতো দুলাভাই। আমি কেন আমার আত্মিয়র নিকট চাঁদা চাইব। আর চাঁদা চাইলে কেউ তার নাম ও মোবাইল মাম্বার ব্যবহার করে? সর্বহারা নামে কোন পাটি আছে এমন নামাও আমি কোন দিন শুনিনি। বিষয়টি নিয়ে আমিও বিব্রত। আমিও আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

এদিকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ চিঠিটির উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এবং চাঁদা দাবির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তদন্তপূর্বক প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব বা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চাঁদা দাবির সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্তে শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

এনআই/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন