সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদের আনন্দে হাসল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

ঈদের আনন্দে হাসল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

কক্সবাজার : পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ যেন কোনো শিশুর জীবন থেকে হারিয়ে না যায়, এই মানবিক প্রত্যয়কে সামনে রেখে কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

নতুন পোশাক, প্রসাধনী সামগ্রী, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর ভালোবাসায় ভরা একটি দিন পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে কেন্দ্রটির শিশুরা।

রবিবার (২৪ মে) সকালে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। “শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে”এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল ঈদের নতুন পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ, দেয়ালিকা উন্মোচন এবং শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি নিবাসী শিশুদের লেখনীতে প্রকাশিত দেয়ালিকা “আলোর পথযাত্রী”-এর ত্রয়োবিংশ সংখ্যা উন্মোচন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “কেন্দ্রের শিশুদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখেই বোঝা যায় তারা ভালো আছে। এই শিশুরাই একদিন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রত্যয় বাস্তবায়নে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মামনুন আহমেদ অনীক। কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নিবাসী শিশু নিজাম উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন।

শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উশু প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। পরে অতিথিরা শিশুদের হাতে ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী তুলে দেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং নিবাসী শিশুদের তৈরি পুঁতির তাজমহলের প্রতিকৃতি উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করা হয়।

উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, “আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমাদের এই আয়োজন। শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

দিনশেষে নতুন পোশাক হাতে শিশুদের উজ্জ্বল মুখ আর প্রাণখোলা হাসি যেন জানান দিল, ভালোবাসা আর যত্ন পেলে তারাও স্বপ্ন দেখতে জানে, এগিয়ে যেতে জানে আলোর পথে।

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন