কক্সবাজার : কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলার তদন্তে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। কারাগারে আটক থাকা এক ব্যক্তিকে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখিয়ে নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তি আবুল বশর (৩৫), চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের হাফালিয়াকাটা মোরাপাড়া এলাকার নুরু সওদাগরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ চকরিয়া থানার জিআর-১৩৪/২০২৫ নম্বর মামলায় (দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারা) আবুল বশরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কিন্তু পরবর্তীতে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে চকরিয়া থানায় দায়ের হওয়া আরেকটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-৫৮) আবুল বশরকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনার সময় তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ মার্চ থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে কারাবন্দি রয়েছেন। ঘটনার দিনও তিনি কারাগারেই ছিলেন বলে কারা কর্তৃপক্ষের রেজিস্টার ও হাজতি তালিকার তথ্য থেকে জানা যায়।
আবুল বশরের স্বজনদের দাবি, আগে থেকেই কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তাকে নতুন মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, হয়রানি এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন বলেন, “কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে নতুন মামলায় আসামি করা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এমনটি করা হলে তা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল হতে পারে।”
আইন বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তাকে বাইরে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখানো হলে তা তদন্তে গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া এজাহারে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলে হয়রানিমূলক মামলার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
মানবাধিকারকর্মীরাও বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে নতুন করে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ সত্য হলে তা ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, “কোনো আসামি যদি জেলহাজতে থাকে, তাহলে তার পক্ষে বাইরে গিয়ে অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশের কাজে ভুল বা তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
তবে ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা চকরিয়া থানার তৎকালীন ওসি শফিকুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরকানুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আলোচিত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরকানুল ইসলামকে সম্প্রতি এক নারী ভিকটিমকে উদ্ধারের ঘটনায় লাঠিচার্জের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস



