রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

কক্সবাজারে এতিমখানার শিশুকে ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন দণ্ড

কক্সবাজারে এতিমখানার শিশুকে ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন দণ্ড

কক্সবাজার : কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম শাখার শিশুকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত দারোয়ান মহিউদ্দিন কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় তাকে অর্ধলাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, কক্সবাজারের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ছলিমুল মোস্তফা।

দণ্ডপ্রাপ্ত মহিউদ্দিন ওরফে মহদ্দিন (৪৫) কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল মলমচরের সাকের হোসেন ও নুরজাহানের ছেলে। তিনি কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে মামলা হওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার এক নারী তার ১০ বছর বয়সি এতিম নাতনিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০২১ সালের ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা জানান, শিশুটির ২ বছর থাকাকালীন তার মাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার পর তিনি মেয়ের মতোই লালনপালন করেন। অভাবের কারণে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার এতিখানায় দেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সকালে নাস্তার প্রলোভনে শিশুটিকে নিজের রুমে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালান দারোয়ান মহিউদ্দিন।

এতে শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ হলে এতিমখানার দায়িত্বে থাকা আমির হুজুরের স্ত্রীকে জানান। তবে বিষয়টি অভিভাবককে জানানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ভিকটিমের অভিভাবক ২০ মার্চ দুপুরে মাদ্রাসায় গেলে শিশুটি তাকে বিষয়টি জানায়। এসময় তিনি নাতনিকে নিয়ে যেতে চাইলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিয়ে যেতে দেয়নি। এলাকায় গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তার পরামর্শে ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওইদিনই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পিপি ছলিমুল মোস্তফা আরও জানান, মামলার ৬ মাসের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়। ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন এবং ধারাবাহিকভাবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য শেষে মঙ্গলবার (৫ মে) রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এতে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। কারান্তরীণ হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে পলাতক থাকায় রায় ঘোষণাকালে আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারের পর সাজাভোগ গণনা শুরু হবে।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হরি সাধন পাল বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস

 

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন