কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত থেকে ছাত্রলীগ কর্মী ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের আঘাতে মা নিহত হয়েছেন। এসময় এসএসসি পরীক্ষার্থী বোনসহ আরও অন্তত ৩ জন আহত হয়েছে।
নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)। শনিবার রাত ৮ টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত ছৈয়দা বেগম স্থানীয় সাব্বির আহমদের স্ত্রী।

এলাকাবাসী সুত্র জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরী হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই মূলত থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
শনিবার স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে হা হা রিয়েক্ট দেন ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মারধর করছিল। এসময় বাঁচাতে এগিয়ে যায় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান।
তখন ইমরানকেও মারধর শুরু করে তারা। পরে খবর পেয়ে ইমরানকে বাঁচাতে তার মা এগিয়ে গেলে বিএনপি নেতারা তাকে মারধর করে। সে সাথে যান এসএসসি পরীক্ষার্থী বোন, ভাবী ও ভাই। কিন্তু মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করে তাদেরকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্মমভাবে আঘাতে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের সন্তানেরা দাবী করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান ও শামসুল আলমের নেতৃত্বে খুন করা হয় ছৈয়দা বেগমকে।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে অপহরণ করে মারধরের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে রহস্যজনক কারণে আটক করা হয়নি।
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কিভাবে মারা গেছে সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস



