সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় তিনজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড

কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় তিনজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড

কক্সবাজার: কক্সবাজারে বেড়াতে আসা এক অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণচেষ্টার বহুল আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি কটেজ মালিককে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় কোনো আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল গফুর (২৬) এবং এজাহার মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৬)।

একই মামলায় অভিযুক্ত ‘গুড ভাইব কটেজ’এর মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশাররফ হোসেন টিটু। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মহিউদ্দিন মঈন।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ)/৩০ ধারায় আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তিন আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যালিসা ব্রুক এলিয়ট। ১৪ ডিসেম্বর তিনি কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মারমেইড বিচ রিসোর্টের পাশে অবস্থিত ‘গুড ভাইব কটেজে’ ওঠেন।

একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে তিন দণ্ডিত আসামি কটেজে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে ওই নারী আহত হন। পরে তিনি কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের এক নিরাপত্তাকর্মীর সহযোগিতায় দুই সহযোগীকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। তারা প্রথমে চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করলেও পরে বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্তকারী সংস্থা আদালতে উপস্থাপিত নথিতে উল্লেখ করে।

সাত বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের অভিমত।

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন