সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যায় আদালতে চার ঘাতকের স্বীকারোক্তি

কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যায় আদালতে চার ঘাতকের স্বীকারোক্তি

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চার ঘাতক। গতকাল সোমবার রাতে ৬নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির খাস কামরায় চার আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।

পুলিশ জানায়, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। সোমবার বিকালে তাদের সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিকালে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারকের সামনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন গ্রেফতার সোহাগ, এমরান, রাহাত ও সুজন।

এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাতে তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার হোটেল আইরিশের পাশের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।

নিহতের পরিবার জানায়, বুলেট বৈরাগী প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার জন্য শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে ঢাকাগামী বাসে উঠেন। তার কুমিল্লা বাইপাসে নেমে যাওয়ার কথা। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ফোন করলে তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন বলে জানান।

তবে তার মা নীলিমা বৈরাগী জানান, শেষবার কথা বলার সময় তার ছেলের কণ্ঠ অপরিচিত মনে হয়েছিল।

কিন্তু কথা বলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পান। খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে শনিবার সকালে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। এর পরপরই সড়কের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

নিহত বুলেট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ সংলগ্ন পানপট্টি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তার বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও এক বছর বয়সি এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

মামলার বাদী নীলিমা বৈরাগী বলেন, শুনেছি চার আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

এজেড/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন