চুয়াডাঙ্গা : দর্শনার মাঠে মাঠে পাকা ধান। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কখনো মষুলধারে আবার কখনো থেমে থেমে শিলা ও ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বপ্নের ফসল পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবে কি এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকেরা। বিস্তর মাঠ জুড়ে থাকা পাকা ধান ফেলে রেখে ঘরে ঠিকমত ঘুম হচ্ছে না তাদের।
দর্শনার পারনপুর,রামনগর ও বেতেগাড়ী, নলগাড়ী ও সুনডোর মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠ জুড়ে স্বপ্নের পাকা ধান। কৃষকরা ধানের মাঠে যাচ্ছে আর ভাবছে কবে বৃষ্টি থামবে কবে ধান কেটে ঘরে তুলবে এ নিয়ে প্রহর গুনছে। এদিকে মাঠে সপ্তাহ ব্যাপী বৃষ্টির ফলে পাকা ধান ফুটে কল বেরিয়ে পড়ছে।
টানা বৃষ্টির কারণে দিন মুজুরা পড়ে চরম বিপাকে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে দিন মুজুর খেটে খাওয়া অতি কষ্টে দিনপাত করছে।

পরানপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে সরোয়ার হোসেন বলেন, আমার ২ বিঘা ১০ কাঠা ধান ছিল। আগাম চাষ করায় আমি ধান গুছিয়ে নিতে পেরেছি। ফলন ২২/২৩ মন হারে উৎপাদন ধান পেয়েছি। তবে বৃষ্টির কারনে বিছালী মাঠেই বিচালী গাঁদা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।
একই গ্রামের হাদীর ছেলে আরিফুল ইসলাম বলেন, মাঠে ধান পেকে গেছে বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না। পাকা ধান ফুটে কল বেরিয়ে পড়ছে।
রুদ্রনগর গ্রামের ভেগা মিয়া বলেন, ধান পেকে গেছে পানি হচ্ছে তার পরও ধান কেটে ফেলতে হচ্ছে।
রামনগর গ্রামের জমির আলী জানান, আমাদের মাঠে মাঠে ধান পেকে রয়েছে, এখন পুরা ১৫দিন ধরে ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ হওয়ার কথা কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে জোন বচ্ছে না। ফলে বাড়ি বসে বসে সময় পার করছি এবং ধার দেনা করে খেয়ে পরে বেঁচে আছি।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকতার্ শারমিন আক্তার জানান, চলতি উৎপাদন মৌসুমে ৮ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষমাত্রা নিধার্রন করা হয়। সেখানে ৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ইরি এবং উপসী ফলন ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। সেই ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নিয়ে সংকিত হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
এএম/এনডি/এএস



