সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে চঞ্চল নামে এক চিহ্নিত মাদকাকারবারী। এ সময় ভংচুর করা হয় সাংবাদিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রেসক্লাবে ঢুকে এমন নগ্ন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত গেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, কেরু মিলপাড়া এলাকার আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি মদ্যপ অবস্থায় দর্শনা প্রেসক্লাবের পাশে অবস্থান নেয়। তারা প্রেসক্লাবের দেওয়ালে প্রসাব করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং মাথায় আঘাত করে। হান্নান প্রাণ বাঁচাতে প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।
প্রেসক্লাবে ঢুকেও রক্ষা হয়নি। চঞ্চলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে লাইট বন্ধ করে দিয়ে সাংবাদিক আব্দুল হান্নানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় গাড়িচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাদকাকারবারী ও তাদের সহযোগীদের বেপরোয়া আচরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মব সৃষ্টি করে প্রেসক্লাব ভবন ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এছাড়া প্রেসক্লাবের ভিতরে অবস্থান নেয়া সাংবাদিকদের বাহিরে বের করে পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
খবর পেয়ে দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের দুইটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতেই মাদকাকারবারীরা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে।
এদিকে প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন।
এতে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাবে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। আমরা মনে করি এটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, গতকালের হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
দর্শনা থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইএআর/এনডি/জেএন



