রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বাজেট ২০২৬-২৭: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

বাজেট ২০২৬-২৭: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

ঢাকা : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে থাকছে করছাড়ের ছড়াছড়ি। সঙ্গে থাকছে ভ্যাট ও শুল্ককর ছাড়। দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে এবারে ইলেকট্রনিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই খাতে বেশি ছাড় দেওয়া হতে পারে।

দেশে তৈরি এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, সৌর বিদ্যুৎ, ইলেকট্রিক গাড়ি, ই-বাইক, দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর, মোবাইলফোনের দাম কমতে পারে।

দেশীয় এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর ছাড় দেওয়া হতে পারে। এসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে অব্যাহতি সুবিধা আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

দেশীয় ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারণ করতে সরকার এ খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্যে, ইলেকট্রনিক পণ্য রপ্তানি করা। সেজন্য দেশীয় শিল্পের বিকাশে এই খাতের ভ্যাট কমানো, শুল্ককর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। এটিএম কার্ডসহ সব ধরনের কার্ড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে। হার্টের রিং ও চোখের লেন্স এর ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে।

সৌর বিদ্যুতের একটি উপাদান হলো ব্যাটারি, সেজন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

এছাড়া সৌর বিদ্যুতের সব ধরনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ককর ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। আবার সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করমুক্ত করা হতে পারে। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ রেয়াত বা অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

সেমি কন্ডাক্টর খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে। টাগবোট আমদানিতে শুল্ককর কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহার হতে পারে।

মৃতদেহ সংরক্ষণে মর্চুয়ারি আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে।

প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ৩ শতাংশ হতে পারে। লোশন, ফেস ক্রিম, ফেসওয়াশ আমদানিতে কেজি প্রতি শুল্ক কমিয়ে ৭ ডলার করা হতে পারে।

১১৩ পণ্যের ওপর আরোপিত তিন শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনে করছাড় সুবিধা আরও ১০ বছর অব্যাহত রাখা হতে পারে।

লিপস্টিক আমদানিতে কেজি প্রতি শুল্ক কমিয়ে ৩০ ডলার হতে পারে। স্থানীয় ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া ইলেকট্রিকি গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে গাড়ির কিলোওয়াট অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করা হতে পারে। সৌর বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার কমলে আমদানি জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমবে।

স্বর্ণ বিক্রিতে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রিতে দাম অনুযায়ী ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। তবে পাঁচ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট হারে দুই হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
মোবাইল সিমের ৩০০ টাকা কর বাতিল হতে পারে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্ডার আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে।

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার সব ধরনের করছাড় দিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য যেমন- ধান, চাল, গম, আল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোগ্যতেল, বীজসহ ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

এসব নিত্যপণ্যের ওপর ভোক্তা পর্যায়ে কোন ভ্যাট নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ব্যবহৃত ১৫টি আমদানি করা পণ্যের অগ্রিম কর কমিয়ে ১ থেকে ২ শতাংশ হতে পারে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি, কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ হতে পারে।

এছাড়া দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর, মোবাইল এর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে। তবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মনিটর ইত্যাদি আমদানিতে শুল্ককর বাড়তে পারে।

স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর কমিয়ে কমে ১ শতাংশ হতে পারে। পরিবহণ, ক্যারিং ও গাড়ি ভাড়ার উৎসে কর কমছে। তেলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন ব্যবহার করহার আগামী ১০ বছর পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

ক্যানসারের ৯ ধরনের ওষুধ আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। আমদানি করা শিশু খাদ্যের দাম কমতে পারে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সব ধরনের ভ্যাট এবং কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। মেট্রোরেলকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে প্রতিমাসের পরিবর্তে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে প্রতিমাসে ভ্যাট জমা দিতে হবে।

ফ্রুটব্যাগ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। ফ্লোট গ্লাসের ৫ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ হতে পারে। সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্সের ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। সার ও কীটশাকের ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে।

এসএস/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন