দেশের ঐতিহ্যবাহী চিনিকল কেরু অ্যান্ড কম্পানি। প্রতিষ্টানটির মূল উৎপাদিত পণ্য চিনি। তবে চিনি উৎপাদনে ৬২ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেও প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে অর্জন করেছে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকার নিট মুনাফা।
কেরুর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে তাদের ডিস্টিলারি বিভাগ। যেখানে শুধু মদ বিক্রি করেই এসেছে ১৯০ কোটি আট লাখ ২৯ হাজার টাকার আয়।
সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে দেখা গেছে, সরকারকে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব ও ভ্যাট প্রদান এবং চিনি খাতের লোকসান সমন্বয় করার পরও প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের লাভে রয়েছে।

ফলে ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু অ্যান্ড কম্পানি এবার ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে।
কম্পনির ডিস্টিলারি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগে উৎপাদিত হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ২২০ কেস ফরেন লিকার (বিলাতি মদ), ২৪ লাখ ৮৯ হাজার প্রুফ লিটার কান্ট্রি স্পিরিট (সিএস) এবং ২১ হাজার লিটার ভিনেগার। এসব পণ্য বিক্রি করেই এসেছে ১৯০ কোটির বেশি রাজস্ব আয়।
কেরুর মদের চাহিদা বাড়তে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলা ডিস্টিলারি বিভাগে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় অটোমেশন কার্যক্রম। এরপর উৎপাদনের গতি বাড়ে, মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং বাজারজাতকরণে নতুন গতি আসে।
কেরুর বাজারজাত করা আট ধরনের মদের মধ্যে রয়েছে—ভদকা, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, অরেঞ্জ কুরাকাও, গোল্ড রিবন জিন, ওল্ড রাম ও রোসা রাম।
ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, উৎপাদনে অটোমেশন চালু করা এবং আধুনিক বোতলজাত প্রক্রিয়া গ্রহণের ফলে উৎপাদন বেড়েছে, বিক্রি বেড়েছে, একই সঙ্গে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে।
কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানিয়েছেন, মদের পাশাপাশি চিনি খাতেও প্রত্যাশিত সাফল্য পূরণে অটোমেশিনে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
জেডএ/এনডি/এএস



