ঝিনাইদহের মহেশপুরে শামসুদ্দিন সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী সামারুল ইসলাম বাবুকে জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। পরে পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর ঘটনাটি ঘটে। পরে বিকেলের দিকে মহেশপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সামারুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন সামারুলকে আটক করে। পরে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। মহেশপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, লোকটিকে মারধরের পর পুলিশ সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
দুই পক্ষের বক্তব্য এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই মেয়ের মায়ের সঙ্গে সামারুলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল। ফলে ঘটনাটি অন্য দিকে মোড় নিতে পারে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি বলেন, মামলার বাদী পাওয়া যাচ্ছে না। বাদীপক্ষ ও বিবাদীপক্ষ নিজেরা কথা বলছে। লিখিত অভিযোগ না পেলে তো আমরা মামলা নিতে পারব না। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সামারুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দর্শনা মিলগেটে বৃক্ষ মেলা চলাকালীন সময় , দর্শনা থানার এএসআই তালেব মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি নিজেকে যুবদল কর্মী পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজনও পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
ওই সময় সামারুল নিজ মোবাইল ফোনে লাইভ ভিডিও করে নিজেকে যুবদল কর্মী পরিচয় দিয়ে পুলিশ তাকে হয়রানি করছে এবং নেতাকর্মীদের তাকে রক্ষা করার আহ্বান জানান এমন কোথাও রয়েছে ভিডিওতে ফুটেজে।
তবে ওই ঘটনার বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজরুল ইসলাম বলেন মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ থাকায়, দর্শনা থানার এএসআই তালেব সহ কয়েকজন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে সামারুল বাবু তার নিজস্ব লোকজন দিয়ে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করে সে নিজেকে রক্ষা করে। পরবর্তী সময়ে তাকে অনেক খোজাখুজি করে আর পাওয়া যায় না।
সামারুলের বিরুদ্ধে ওঠা আগের অভিযোগ এবং সর্বশেষ স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে তোলার অভিযোগ,দুটি ঘটনা একই সূত্রে যুক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/এএস



