শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোরকিপার ফয়সাল, আগের মতোই খাটাচ্ছেন প্রভাব

মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোরকিপার ফয়সাল, আগের মতোই খাটাচ্ছেন প্রভাব

সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলার আসামি মো. হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে আবারো সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা, টেন্ডার বাণিজ্য ও সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একাধিক অভিযোগ ও বদলির পরও প্রভাবশালী মহলে তদবির করে তিনি পুনরায় চুয়াডাঙ্গায় ফিরে এসে আগের মতোই প্রভাব বিস্তার করছেন।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কেনা মেডিকেল ও সার্জিক্যাল সামগ্রী (এমএসআর) সরবরাহ না করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৪০২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মু. ছিদ্দিকুর রহমান ও তৎকালীন স্টোর কিপার মো. হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এত গুরুতর অভিযোগ এত অনিয়মের তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এখনো চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত রয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মো. বজলুর রহমান বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর মামলাটি করেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিভিন্ন এমএসআর সামগ্রী কেনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে কেনা সামগ্রীর একটি বড় অংশ স্টক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিতরণ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, কার্যাদেশের বিপরীতে কিটোরেলাক, লোসারটিল, সেফট্রাইঅক্সন, এসোমিপ্রাজলসহ বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার বিল পরিশোধ করা হলেও এসব সামগ্রীর একটি অংশের স্টক রেজিস্টারে কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি।

একইভাবে বিভিন্ন ইনজেকশন, ট্যাবলেট ও সার্জিক্যাল সামগ্রীর সরবরাহ ও মজুতের তথ্যের সঙ্গেও বিলের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরবরাহের কাগজপত্র তৈরি এবং মালামাল বুঝে পাওয়ার বিষয়ে প্রত্যয়ন দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থের বিল পরিশোধ করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে এসব সামগ্রীর একটি অংশ বাস্তবে স্টক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত বা বিতরণ করা হয়নি বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি চুয়াডাঙ্গার সংশ্লিষ্ট বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই অভিযোগের মামলাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। দুদকের নথি অনুযায়ী, হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংক্রান্ত আরও পৃথক মামলা রয়েছে।

২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৩ কোটি টাকার এমএসআর সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২ কোটি ১৫ লাখ ১২ হাজার ৮৫১ টাকার সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এসব মামলা ও অভিযোগের মধ্যেও বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত হাফিজ বিন ফয়সাল স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। এর আগে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বদলি করা হলেও কিছুদিন পর বিভিন্ন দপ্তরে তদবিরের মাধ্যমে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ফিরে আসেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসার পর তার বিরুদ্ধে সদর হাসপাতালের বিভিন্ন কেনাকাটা, টেন্ডার ও সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. হাফিজ বিন ফয়সাল বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে দুদকের একটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইএইচপি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন