সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

শেষ বয়সে একটু আশ্রয় আর দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা চান শ্রুতি খাতুন

শেষ বয়সে একটু আশ্রয় আর দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা চান শ্রুতি খাতুন

চুয়াডাঙ্গা: চোখে ঝাপসা দৃষ্টি, শরীরে বয়সের ভার। কারও কাছে হাত পেতে খাওয়ার মতো শক্তি নেই। জীবনের শেষ সময়ে শুধু একটু আশ্রয় আর দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা চান ৮৯ বছরের বৃদ্ধা মোসাম্মৎ শ্রুতি খাতুন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। চার মেয়ে ও এক ছেলের জননী ছুরুতি খাতুনের সংসার ছিল সন্তানদের ঘিরে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—প্রায় আট বছর আগে খাদ্যনালীর সমস্যায় মারা যান তাকে দেখাশোনা করা এক মেয়ে। এর মাত্র তিন মাস পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান একমাত্র ছেলে সোহরাব।

সন্তান হারানোর পর যেন পুরো পৃথিবীটাই তার কাছে শূন্য হয়ে গেছে। এখন নিজের বলতে নেই কোনো জমিজমা, নেই থাকার মতো একটি ঘরও।

পরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটছে তার। দূরসম্পর্কের এক ভাই কখনো খাবার দিলে খান, না দিলে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।

বৃদ্ধা ছুরুতি খাতুন বলেন, লজ্জায় কারও কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে পারেন না। অনেকের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেছেন, কিন্তু সেভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার চাওয়া খুব বেশি নয়—একটি ছোট ঘর, আর বাকি জীবনটা যেন দু’বেলা খেয়ে শান্তিতে কাটাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা।

সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ কিংবা কোনো মানবিক সংগঠন যদি তার পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো জীবনের শেষ দিনগুলো একটু নিরাপদে কাটাতে পারবেন এই অসহায় বৃদ্ধা।

একটি ঘর, দু’বেলা খাবার—এই সামান্য চাওয়াটুকুই এখন ৮৯ বছরের শ্রুতি খাতুনের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

সহায়তা করতে চাইলে, বিকাশ: ০১৪০৮৬৩০৬০৫

ওএনবি/জেকে/এএস 

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন