রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সাতক্ষীরায় বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে চাষী

সাতক্ষীরায় বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে চাষী

সাতক্ষীরা : উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ দেখা গেছে। জমিতে থাকা ধান কাটা ও ঝাড়া শুরু হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। এতে করে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।

একদিকে প্রচুর বাতাসে নিচু জমিতে লাগানো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিরাজ করছে বৈশাখের তীব্র তাপপ্রবাহ, সাথে রয়েছে ভ্যাপসা গরম, ফলে বেশি দাম দিয়ে বাইরে থেকে শ্রমিক আনতে  হচ্ছে ধান চাষীদের।  অতিরিক্ত গরমের কারণেএবার শ্রমিকেরা বেশি ধান কাটতে পারছে না। অন্যদিকে ধানের বাজারদর কম হওয়ায় ধান চাষীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা। কৃষকের রক্ত ঘামের সোনালি ফসল যেন গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭ উপজেলায় চলতি মৌসুমে  ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর ধরা হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর। এবার বোরো ধানের চাউলের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।

সরজমিনে দেখা যায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় জমিতে ধান পেকে সোনালি রঙে শোভা ছড়িয়ে দুলছে জমিতে। এখন সেই সোনা ধান ঘরে তুলতে মাঠে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে শ্রমিকের সংকট দেখা দেয়ায় কৃষকের ধান ঘরে তুলতে সময় লেগে যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, বিলের জমির ধান পেকে গেছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিকের দাম এবার অনেক বেশি। তাছাড়া এবার ধান লাগাতে গিয়ে সার কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচও পড়ছে অনেক বেশি। অপরদিকে জমি থেকে ধান বহন করা টলি ও ভ্যান এর ভাড়া ও অনেক বেশি কিন্তু ধানের দাম নেই। এক মণ ধান বেঁচে একজন শ্রমিকের খরচ উঠছে না।

তারা বলছেন, ধান কাটার মূল ভরসা বহিরাগত শ্রমিকরা। কিন্তু এবার রৌদ্রের তাপ ও ভ্যাবসা  গরমেের কারণে  শ্রমিকরা  আসতে চাচ্ছে না। আবার ধান কাটার পর ট্রলিতে করে রাস্তায় আনা হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রলিও নেই। পাকা ধান নিয়ে মহা যন্ত্রণায় পড়তে হচ্ছে ধান চাষিদের।

আজিজুল নামের এক কৃষক জানান,ধান কাটার জন্য এলাকার শ্রমিক না পেয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে  শ্রমিক খুঁজে নিয়ে এসে  ধান কাটা হচ্ছে।

উপজেলার বাইগুলি গ্রামের কৃষক সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, আমি এবার দশ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি ফলন হয়েছে ভালো। কিন্তু স্থানীয়  শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে অনেক বেশি দামে শ্রমিক আনা  লাগছে। এবার  ধান করতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে কিন্তু ধানের দাম কম থাকায় আমরা পড়েছি মহাবিপকে।

ফটিক দাশ নামে এক ধান চাষি জানান, ধানের ফলন ভালো হলেও ধান কাটতে স্থানীয় শ্রমিক না পাওয়ায় ও বাইরে শ্রমিকের দাম অনেক বেশি হওয়ার কারণে নিজের ধান নিজেই কাটছি। ধান মাঠ থেকে বাড়িতে না যাওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তার ভিতরে আছি।

কৃষক কুতুব উদ্দিন মোড়ল জানান, এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে বেশি দামে ধান কাটার শ্রমিক নিয়েএসে ধান কাটায় খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে আকাশের অবস্থা খুবই খারাপ বৃষ্টি নামলেই জমিতে গতবারের মতো ধানে বড় নষ্ট হয়ে যাবে তাই খরচের দিকে না তাকিয়ে ধান গুলি  গুছিয়ে বাড়ি নেওয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছি।

বাইরে থেকে ধান কাটতে আসা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমরা এই মৌসুমের আশায় থাকি এখানে আমাদের একটু বাড়তি ইনকাম হয় যেটা দিয়ে আমাদের পরিবার নিয়ে সচ্ছলভাবে চলতে পারি। তবে এবার প্রস্তুত রোদ্রের তাপ ও ভ্যাবসা গরমের কারণে আমরা ধান কেটে এগোতে পারছি না। মালিকের বুঝ দিয়া কঠিন হয়ে পড়ছে

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, এবার সাতক্ষীরা জেলায় ধানের খুব  ভালো ফলন হয়েছে। শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে একটু সময় লাগছে।ইতিমধ্যে ৪৪%  ধান কর্তন করা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ঘের এলাকা হওয়ায়  ধানা আনা  নেওয়া পরিবহনের একটু সমস্যা আছে। সাতক্ষীরা জেলায় যে পরিমাণে ধান কাটা হয়েছে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অনেক জেলায়ও এখনও তা সম্ভব হয়নি আশা করছি দশ দিনের ভিতরে মাঠের ধান প্রায় সব কাটা হয়ে যাবে।

আব্দুল মোমিন/এনডি/এ এস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন