রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

আপিলে ঝুলে আছে সাত খুন মামলার রায়, হতাশ স্বজনরা

আপিলে ঝুলে আছে সাত খুন মামলার রায়, হতাশ স্বজনরা

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বহুল আলোচিত সেই সাত খুনের ঘটনার এক যুগ পূর্ণ হলো আজ।

নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ড সে সময় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তোলে। তবে দীর্ঘ এক যুগেও বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ শেষ হলেও এখনো সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় রায় কার্যকর হয়নি। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।

নিহত সাতজন হলেন—নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।

তদন্তে উঠে আসে, স্থানীয় কাউন্সিলর নূর হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে র‌্যাবের কিছু সদস্য অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। তবে এরপর আসামিপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গেলে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘১২ বছর হয়ে গেল, কিন্তু আমরা এখনো চূড়ান্ত বিচার পাইনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমাদের একটাই দাবি, উনার মা বেগম খালেদা জিয়া ওয়াদা করেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সাত খুনের বিচার হবে। উনি যদি আমাদের প্রতি একটু দৃষ্টি দেয়, ইনশআল্লাহ আমরা আশাবাদী এই হত্যার রায় দ্রুত কার্যকার হবে।

সাত খুনের মামলার নিম্ন আদালতে আইনজীবী অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ঘটনার সময় ক্ষমতায় ছিল অভিযুক্তদের পক্ষ, ফলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে এবং নারায়ণগঞ্জের এই সাতটি হত্যাকাণ্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। হাইকোর্টের রায় তারা মেনে নিয়েছেন

তিনি আরও বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। খুব দ্রুতই আপিল নিষ্পত্তি হবে এবং মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, নারায়ণগঞ্জ সাত খুন মামলাটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে। এই মামলার চূড়ান্ত রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দোষীদের যথাযথ শাস্তি কার্যকর করা হবে।

জেপি/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন