কুষ্টিয়া : পঁচিশে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে প্রতিবছর এই দিনটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও, এবার সেখানে বিরাজ করছে বিষণ্ণতা। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার কুঠিবাড়ির ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
এতে একদিকে যেমন রবীন্দ্রভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকেই কুঠিবাড়ির মেলাকে কেন্দ্র করে শিলাইদহ ও এর আশেপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের ধুম পড়ত।

স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব রবিউল ইসলামের ভাষায়, “মেলার কয়েকদিন আগে থেকেই মেয়ে-জামাই আর আত্মীয়রা বাড়িতে ভিড় করতেন। কিন্তু এবার বাড়ির আঙিনায় সেই উৎসব নেই। দোকানদাররা সব চলে যাচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুঠিবাড়ির আমবাগানে যেখানে লোকজ পণ্যের পসরা বসার কথা ছিল, সেখানে এখন উচ্ছেদ হওয়া দোকানের চিহ্ন। মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের মালামাল গুছিয়ে নিচ্ছেন। কারও চোখে জল, কারও মুখে তীব্র আক্ষেপ।
জানা গেছে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ঠিকই রয়েছে, কিন্তু মেলা আয়োজনে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
বুধবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, ২০ বছর ধরে তিনি এই মেলায় আসছেন, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনও দেখেননি।
খেলনা ব্যবসায়ী মীর বাবুলের দাবি, শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান বসিয়েছিলেন। হঠাৎ মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রত্যেকের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
কুঠিবাড়ির মেলার সাথে জড়িয়ে আছে কুষ্টিয়ার মানুষের আবেগ ও গ্রামীণ সংস্কৃতি। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলাটি ছিল সাধারণ মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। এবার সেই মেলা বন্ধ হওয়ায় রবীন্দ্র অনুরাগী ও দর্শনার্থীরা হতাশ। তাদের মতে, মেলা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কুঠিবাড়ির চিরচেনা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবার ম্লান হয়ে গেছে।
মেলার অনুমতি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দিয়েছেন আগামীতে তারা আর এখানে আসার ঝুঁকি নেবেন না। রবীন্দ্র জয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানে আড়ম্বর থাকলেও, মেলা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত শিলাইদহের লোকজ ঐতিহ্যে এক বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইয়াসির আরাফাত/এনডি/এএস



