সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ১ লাখ ২০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত 

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ১ লাখ ২০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত 

সাতক্ষীরা :পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট। সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি পশুর সমাগম এবার হাটগুলিতে।

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে গড়ে উঠেছে গরু-ছাগলের খামার। বিশেষ করে বেকার তরুন তরুনীরা তাদের বেকারত্ব অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ও বাড়তি আয়ের জন্য গরু এবং ছাগল পালন খামার গড়ে তোলেন ঈদ উপলক্ষে।

সাতক্ষীরা উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে বিশেষ করে বেকার তরুন তরুনীরা জেলার অধিকাংশ গ্রামের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য গড়ে তুলেছেন গরু, ছাগল ও ভেড়ার খামার।

সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর সরবরাহ এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর।

তিনি আরো বলেন জেলার ৭ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কুরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এসব প্রস্তুতকৃত পশুর বিপরীতে জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার।

জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছ।

এদিকে খামারিরা বলেন, জেলায় কুরবানীর পশুর অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় আমাদের অনেক খামারির মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খামারিরা জানান, গমের ভূষি, ভুট্টা, সয়াবিন খৈলসহ পশুখাদ্যের দাম বাড়লেও কোরবানির বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছ। তবে ভারতের সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশি পশুর বাজার ভালো থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ।

সদর উপজেলার চাঁদপুর এলাকার এমবিএ পাশ তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের গরুর খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন তিনি। বিশেষ করে ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা মূল্যের বিশাল আকৃতির গরুগুলো দেখতে প্রতিদিনই খামারে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

খামারে গিয়ে দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিটি পশুর জন্য রয়েছে আলাদা পরিচর্যার ব্যবস্থা। নিয়মিত খাবার সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন খামারের কর্মীরা। দেশীয় প্রজাতির গরুগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি।

তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ জানান, তার খামারে বড় আকারের দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে চাহিদা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।

অন্যদিকে বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার ১০টি গরু রয়েছে। দেশি ঘাস ও প্রাকৃতিক খাদ্যে পশু লালন করায় তিনি কিছুটা আশাবাদী।

খামার মালিক আলমগীর হোসেন জানান, প্রায় এক বছর ধরেই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খামারে থাকা ছোট গরুর দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ টাকা থেকে, আর বড় গরুর দাম ৪ লাখ টাকারও বেশি। বিভিন্ন আকার ও দামের গরু থাকায় ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা খামারে এসে পশু দেখছেন এবং বুকিং দিচ্ছেন।

সরজমিনে পশুহাটে গিয়ে দেখা যায় হাট বাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে গরু, ছাগল ও ভেড়া উঠছে। ব্যাপারীরা জানাই মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবথেকে বেশি। অধিকাংশ ক্রেতা এক লক্ষ টাকার ভিতরে গরু খোঁজ করছেন বেশি। আর বড় গরুর দাম হাকা হচ্ছে গরু ভেদে ১লক্ষ্য থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তবে এগুলোর চাহিদা ক্রেতাদের কাছে বর্তমানে খুবই কম।

দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির বাজারে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে এসেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক বলে ভাবছে সচেতন মহল।

আব্দুল মোমিন/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন