সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ইলিয়াস-সালাহউদ্দিনের ‘গুম’ তদন্তের অগ্রগতি কতদূর

ইলিয়াস-সালাহউদ্দিনের ‘গুম’ তদন্তের অগ্রগতি কতদূর

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের ঘটনার তদন্ত বেশ জোরালোভাবেই চলছে। তদন্ত শেষ হলেই দাখিল করা হবে প্রতিবেদন। বিএনপির এই দুই শীর্ষ মেতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ১০১টি গুমের অভিযোগেরও তদন্ত হচ্ছে।

ইলিয়াস আলী
ইলিয়াস আলী ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রদলের সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক সিলেট-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে বাসার কাছ থেকে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গত বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ ১৫৩ জনকে গুম ও ২ হাজার ২৭৬ জন নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর করা অভিযোগ দাখিল করা হয়।

অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীরা যাতে ন্যায়বিচার পান সেজন্য ওই অভিযোগ দাখিল করার কথা জানিয়েছেন বিএনপির গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গঠিত কমিটির সদস্য।

সালাহউদ্দিন আহমদ
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ সালাউদ্দীন আহমদকে উদ্ধার করে।

ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ।

২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পান। ভারত সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান সালাহউদ্দিন। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই বছরের ৮ মে তিনি ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। ভ্রমণ অনুমোদন দেওয়া হলে তিনি নিজ দেশে ফিরতে চান। দেশবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হতে চান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরদিন ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার জন্য ভ্রমণ অনুমোদন বা ট্রাভেল পাস পান। এরপর ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

এরপর ২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য যাদের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের ঘটনার তদন্ত জোরালোভাবে চলছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এম.এ.সাঈদ/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন