চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর দুই ভারতীয় যাত্রীর কাছ থেকে কসমেটিকস, শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্য আটক করার অভিযোগ উঠেছে বিজিবির বিরুদ্ধে। আটক পণ্যের কোনো রসিদ বা লিখিত কাগজ দেওয়া হয়নি। এমনকি পণ্য ফেরত না দিয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ করেছেন ওই দুই ভারতীয় যাত্রী।
তবে বিজিবি বলছে, একজন যাত্রী বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ পণ্য বহন করায় সেগুলো আটক করা হয়েছে।
বিজিবি-৬-এর পরিচালকের ভাষ্য, বিজনেস ভিসায় এভাবে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পণ্য আনার সুযোগ নেই, অতিরিক্ত পণ্য কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে দর্শনা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মতে, বিজিবি আটক করা পণ্য কাস্টমসে জমা দেওয়ার পর কী ধরনের পণ্য, কী পরিমাণ এবং কোন আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে, এসব দেখে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার ভাষ্য, কাস্টমসে পণ্য জমা না পড়া পর্যন্ত কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
অভিযোগকারী দুই ভারতীয় যাত্রীর একজন রাহেন মন্ডল, পাসপোর্ট নং (Z6652809)। তার বাড়ি ভারতের নদীয়া জেলার বানপুর বাগানপাড়া এলাকায়।
অন্যজন অভিজিৎ বিশ্বাস পাসপোর্ট নং (Z6652335) তার বাড়ি নদিয়া জেলার গাজনা পশ্চিমপাড়ায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বিজনেস ভিসা এবং অন্যজন টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
তাদের অভিযোগ, ভারতীয় গেদে সীমান্তে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা দর্শনা সীমান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সঙ্গে ছিল কসমেটিকস, শাড়ি ও কিছু খাবারজাতীয় পণ্য। বাংলাদেশে প্রবেশের পর দর্শনা বিজিবি চেকপোস্টে তাদের মালামাল তল্লাশি করে কিছু পণ্য রেখে দেয়।
রাহেন মন্ডলের দাবি, তারা ছোট ছোট ব্যাগে করে পণ্য বহন করেন এবং কাস্টমসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর পরিশোধ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। তার ভাষ্য, পণ্য আটক করার পর কোনো রসিদ বা লিখিত কাগজ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী অপর যাত্রীর ভাষ্য, তাদের কাছে থাকা কসমেটিকস, থ্রি-পিস ও শাড়ির মধ্যে কিছু পণ্য আটক করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, পণ্য অবৈধ হলে কাস্টমসের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রয়োজনীয় কাগজ দেওয়া হোক। কিন্তু তা না করে তাদের পাসপোর্ট লক বা, ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিও কথোপকথনে ওই যাত্রীকে আরও বলতে শোনা যায়, আটক পণ্য কাস্টমসে জমা দিয়ে মেমো করার অনুরোধ করলেও তারা কোনো রসিদ পাননি। তার দাবি অনুযায়ী, শাড়ি চারটির মধ্যে দুটি ফেরত দেওয়া হলেও কসমেটিকস ও অন্যান্য কিছু পণ্য ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিজিবি-৬-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন বলেন, সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিজনেস ভিসায় এসেছেন এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এভাবে পণ্য আনতে পারেন না। বিজনেস ভিসায় নমুনা হিসেবে সীমিত পরিমাণ পণ্য আনা যেতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত পণ্য আনা ব্যাগেজ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, আটক অতিরিক্ত পণ্য কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। ওই যাত্রীর কাছে পণ্যের পরিমাণ বেশি ছিল বলেই তা আটক করা হয়েছে।
তবে কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদুল আলমের বক্তব্যে বিষয়টির আরেকটি দিক উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, অপর্যটক যাত্রীদের জন্য ২০২৫ সালের ব্যাগেজ বিধিমালা রয়েছে। স্থলপথে আসা অপর্যটক যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিধিমালায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য আনার বিধান রয়েছে। তবে কোনো পণ্য ব্যাগেজ বিধিমালার বাইরে থাকলে সেটি কীভাবে আটক হয়েছে এবং কোন শ্রেণিতে পড়ছে, তা পণ্য কাস্টমসে জমা পড়ার পর যাচাই করতে হবে।
রাজস্ব কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্যাগেজ বিধিমালার আওতায় কোনো পণ্য আটক হলে তা কাস্টমসে আসার কথা। পণ্য যদি ব্যাগেজ বিধিমালার বাইরে থাকে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অবাধে আমদানিযোগ্য হলে নির্ধারিত কর-শুল্ক আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে শর্তযুক্ত আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজিবি কোথা থেকে পণ্য আটক করেছে বা কী প্রক্রিয়ায় করেছে, সেটি তাদের জানা নেই। পণ্য কাস্টমসে জমা পড়লে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য ও আটকের কারণ যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
এমএস/এএস



