দর্শনার কুড়লগাছি ইউনিয়নে পুলিশের হাতকড়া পরা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় আব্দুস ছামাদ (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে দর্শনা পৌর বিএনপির কর্মী সাঈদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী দর্শনা থানাধীন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে চণ্ডিপুর তেতুলতলা সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আব্দুস ছামাদ বাদী হয়ে দর্শনা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে চণ্ডিপুর হিন্দুপাড়া পুজামন্ডব এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিককে আটক করে পুলিশ। আটকের পরপরই তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চণ্ডিপুর তেতুলতলা এলাকায় বিএনপি নেতা আব্দুস ছামাদের ওপর হামলা চালায় শুকুর আলী (৬০) ও তার ভাই, দর্শনার বিএনপি নেতা সাইদ (৪৫) ও মেহেদী (৩৮)সহ পাচজন।
আব্দুস ছামাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও কাঠের বাটাম নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং হাতকড়া পরা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় মারধর করা হয়।
হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবর আলী (৫৬)সহ কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত আব্দুস ছামাদ বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মারধরের পর চিকিৎসা নেওয়ার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে বাচানোর জন্য তারাই পায়তারা করছে।
অভিযোগের বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রামনগর গ্রামের সাইদ বিএনপির একজন কর্মী। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সেক্রেটারি প্রার্থী ছিলেন। কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদকে মারধর এবং এ ঘটনায় দর্শনা থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে তার জানা নেই ।
অভিযোগে অভিযুক্ত রামনগর গ্রামের সাইদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ব্যস্ত আছি, বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: নুরুল্লাহ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) বলেন, এই সংক্রান্ত একটি বিষয় আমরা অভিযোগ পেয়েছি।বিষয়টি তদন্ত-পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এম/এএস



