ঢাকা: আমিরাতের দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাটিয়েছে দুদক।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অনুরোধপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য–প্রমাণসহ এই অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সুত্রটি বলছে, সেখান থেকে এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দেশটির সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
গত রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে তার গ্রেপ্তার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়া বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।
এসব মামলা, অভিযোগপত্রের নথি, তথ্য-উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একত্র করেই অনুরোধপত্রটি দ্রুত পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় দুদক।
বেনজীর আহমেদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরে তাকে আইজিপি করা হয়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাড়ি হওয়া এই কর্মকর্তা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও এর সাত সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদের নাম ছিল।
২০২২ সালে অবসর নেওয়ার পর তাকে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়নি। ২০২৪ সালের শুরুতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে এবং দুদক বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলে দেশ ছাড়েন বহুল আলোচিত বেনজীর আহমেদ।
আরপি/এনডি/এএস



