রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সাড়া ফেলেছে আলী হোসেনের ৫ টাকায় ‘খাশির মাংসের চপ’

সাড়া ফেলেছে আলী হোসেনের ৫ টাকায় ‘খাশির মাংসের চপ’

চুয়াডাঙ্গা: ফুটপাতের দোকান থেকে হোটেল, আলুর চপ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। সেখানে মাত্র ৫ টাকায় খাসির মাংসের চপ বিক্রি করে সাড়া ফেলেছেন মোহাম্মদ আলী হোসেন। স্বাদ ও সাশ্রয়ী দামের টানে দূর-দূরান্ত থেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মিনাজপুর বাজারে তার দোকানে ছুটে আসছেন ক্রেতারা।

মোহাম্মদ আলী হোসেন পেশায় একটি স্কুলের দপ্তরি। স্কুলে চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে মিনাজপুর বাজারে ছোট্ট খাবারের দোকানে বিক্রি করেন- আলুর চপ, পেঁয়াজু ও সিঙ্গারা। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার ৫ টাকার খাসির মাংসের চপ। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার পিস চপ।

মাত্র ৫টাকায় খাসির মাংসের চপ কীভাবে বিক্রি করছেন— জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, দোকানে কোনো কর্মচারী নেই। স্কুল শেষে তার দুই ছেলে কাজে সহযোগিতা করেন। তিনজনের সম্মিলিত শ্রমেই চলে পুরো ব্যবসা। ফলে কর্মচারীর বাড়তি খরচ না থাকায় কম দামে চপ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন তার দোকানে ৬ থেকে ৭ কেজি খাসির মাংস, এক মণ আলু ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পিস চপ। এর মধ্যে শুক্রবার থাকে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড়।

তিনি আরও বলেন, শুধু কম দাম নয়, আলি হোসেনের তৈরী খাবারের স্বাদ, মান ও পরিচ্ছন্নতাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি জীবননগর উপজেলাসহ চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে আসছেন তার দোকানের চপের স্বাদ নিতে।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে যাওয়া ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, খাসির মাংসের চপ খাবার জন্য ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছি। বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে এসেছিলাম। স্বাদেও অতুলনীয় একইসাথে সাশ্রয়ী মূল্যে খাসির মাংসের চপ পাচ্ছি। আসোলেই এটা একটা দারুণ উদ্যোগ।

স্থানীয় হুমায়ুন কবীর বলেন, অন্য জায়গায় আলুর চপই কিনতে হয় ১০ টাকা। সেখানে আলি হোসেন মাত্র পাঁচ টাকায় খাসির মাংসের চপ বিক্রি করছে। স্বাদও খুব ভালো। আমরা প্রতিনিয়ত এখান থেকে চপ পিয়াজু কিনি।

চপ ক্রেতা মিনাজুল ইসলাম বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ আলি হোসেনের চপ খেতে আসছেন। চপ ভাজার জন্য এখানে তাজা তেল ব্যবহার করা হয় সেটা একদম ফ্রেশ। একদিনের তেল অন্যদিন ব্যবহার করেন না আলি হোসেন, যা আমার কাছে স্বাস্থ্যসম্মত মনে হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল নামলেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষ আলি হোসেনের মাংশের চপ খেতে মিনাজপুর বাজারে আসেন। তারা প্রশংসা করেন প্রতিটি খাবার খেয়ে।

ওএনবি

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন