খুলনা : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাদের পরিজনদের মধ্যে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এসময় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।
আগুনের ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুমেক হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরাতন আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. দিলীপ কুমার বলেন, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল।
তিনি বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আইসিইউতে থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন রোগী আগুন লাগার আগেই মারা যান এবং আরেকজন রোগী স্থানান্তরের সময় মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আইসিইউর রোগীদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়।
তারা আরও বলেন, হাসপাতালের সামনের সড়ক ও মাঠে রোগী-স্বজনদের জড়ো হতে দেখা যায়। অনেকে ভয়ে ও আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। প্রথমদিকে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, সেগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। ব্যালকনি থেকে ৪ থেকে ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।
সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৫৫ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এমটিএস/এনডি/এএস



