সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

জিয়াউলের ফ্ল্যাটে পাওয়া ‘হোয়াইট গোল্ড’ যাচাই করবে দুদক

জিয়াউলের ফ্ল্যাটে পাওয়া ‘হোয়াইট গোল্ড’ যাচাই করবে দুদক

ঢাকা: আদালতের আদেশে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ‘জলসিঁড়ি’ আবাসিক প্রকল্পের ‘জয়িতা’ ভবনের ৯ তলা বাড়ির ৮ ও ৯ তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তল্লাশি চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তল্লাশি চলাকালে সেখানে দামি আসবাবপত্র, পোশাকসহ নানান ধরনের মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সেসব মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুদক। এসব সম্পদের মধ্যে একাধিক ‘হোয়াইট গোল্ডের’ গহনা পেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।

তবে এসব সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ এখনো শেষ হয়নি। সোনা ও হোয়াইট গোল্ড হিসেবে পাওয়া সামগ্রীগুলো আসল কি না, তা-ও যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে সংস্থাটি। দুদক সূত্র জানায়, আপাতত মূল্যবান এসব স্বর্ণালংকারের স্থান হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতের আদেশে বাড়িটি জব্দ করা হয়েছিল। গত বছরের ২৪ এপ্রিল ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের ১৮ কোটি টাকার জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জাকির হোসেন এ নির্দেশ দেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

জানা যায়, দুদকের একটি দল সংস্থাটির উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে জিয়াউল আহসানের বাসভবনে সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ করছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির আট ও নয়তলার ডুপ্লেক্স ভবনে ইনভেন্টরির কাজ করছে। ওই ভবনেই থাকতেন জিয়াউল আহসান।

আরও জানা যায়, ভবনটিতে থাকা আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, অলঙ্কার, শোপিস, ব্যবহার্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে ইনভেন্টরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সামগ্রীর সংখ্যা, মূল্য বা প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দামি পোশাক ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিপত্র পাওয়া গেছে। সোনা ও হোয়াইট গোল্ড হিসেবে চিহ্নিত কিছু সামগ্রীও রয়েছে। তবে এগুলো প্রকৃতপক্ষে সোনা বা হোয়াইট গোল্ড কি না, তা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হবে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ইনভেন্টরির উদ্দেশ্য হচ্ছে আদালতের আদেশে ক্রোক করা সম্পত্তিতে থাকা প্রতিটি জিনিসের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সম্পদের প্রকৃতি, পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

জানা গেছে, জিয়াউল আহসান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর প্লটে নিজ বাড়ির ওই ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকতেন।

সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন জিয়াউল আহসান। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী এ কর্মকর্তাকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 আরপি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন