ঢাকা : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতা-ই সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে বাণিজ্য সংঘাতের পাশাপাশি এবারের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীর জট খোলার সমীকরণ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় বিমানবন্দরে তা কে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২০১৭ সালের পর এটিই ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর।

আজ বৃহস্পতিবার জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছান ট্রাম্প। এই ঐতিহাসিক ভবনটি ১৯৫৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত হয়েছিল।
তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এই হলটিতে চীন বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
হলে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর অনুষ্ঠান শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংলড ব্যানার’ এবং ২১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে।
ট্রাম্প স্যালুট জানান, আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং লাল ও সোনালি রঙের মঞ্চে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এরপর চীনের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এ সময় রঙিন পোশাক পরা ডজনখানেক চীনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও দুই দেশের পতাকা ও ফুল নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়।
বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আজ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। মানুষ জানে না যে যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, আমরা সেটি সমাধান করেছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই সফরে তিনি বিশ্বের ‘সেরা ব্যবসায়ী নেতাদের’ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। আজ এখানে কেবল শীর্ষ ব্যক্তিরাই এসেছেন আপনাকে সম্মান জানাতে।
ট্রাম্প আরও জানান, অনেকেই এই বৈঠককে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন’ বলছেন ও তিনি আলোচনা নিয়ে ‘খুবই আগ্রহী’।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে থাকতে পারা সম্মানের, আপনার বন্ধু হতে পারা সম্মানের। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো’ হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, উদ্বোধনী বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, পুরো বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও অশান্ত।
শি বলেন, বিশ্ব এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডিডিস ফাঁদ এড়িয়ে সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা দিতে পারব?
জেপি/এনডি/এএস



