রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

আম বাগানে হপার পোকার আক্রমণ, ঝরে পড়ছে গুটি

আম বাগানে হপার পোকার আক্রমণ, ঝরে পড়ছে গুটি

চুয়াডাঙ্গায় আম বাগানগুলোতে হপার পোকার আক্রমণের ফলে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। জেলার বেশিরভাগ বাগানে একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। গাছগুলোতে আমের পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে বোটা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আম বাগানে কীটনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করেও কোনো সুফল মিলছে না।

হাতেগোনা কিছু বাগানে অল্প আম থাকলেও সেগুলো তাপদাহে ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাগান মালিকরা। চলতি মৌসুমে বাগান মালিকদের লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হবে। ব্যাহত হবে আম উৎপাদন।

জানা যায়, দেশের বাজারে চুয়াডাঙ্গার আমের ব্যাপক চাহিদা আছে। তবে বেশি দামেও মিলবে না এবার পাকা আম। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কম উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১২২ কোটি টাকা বাজার মূল্য ধরা হলেও অর্ধেক টাকা বিক্রি হবে না। ফলে বাগান মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

বাগান মালিকরা জানান, ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে বাগান মালিকরা বাগান পরিষ্কার ও গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। গাছে গাছে মুকুলে ভরে যায়। মুকুলগুলো ছোট আমের গুটিতে পরিণত হতে থাকে। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকে আম। গুটি আসার পর বাগানে হপার পোকায় ভরে যায়। পোকাগুলো আমের গুটি নিচের দিকে ছিদ্র করে। এতে বোটা থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে। পোকাগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

লিজ নেওয়া বাগান মালিক হাসান বলেন, ‘আম বাগান নিয়ে এ বছর আশাবাদী ছিলাম। আমের গুটিগুলো বড় হওয়ার পর কুয়াশার কারণে পুড়ে গেছে এবং ঝরে পড়েছে। বাগানের ৮০ ভাগ আমের গুটি এ পর্যন্ত নষ্ট হয়েছে। বাগানগুলোয় বোটা ছাড়া আর কিছু নেই।’

জেলা আম ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার বলেন, ‘এ বছর বাগানে প্রচুর মুকুল এসেছিল। আমের গুটি এত ছিল যে, ডাল ভেঙে পড়ার উপক্রম। ভেবেছিলাম লাভবান হবো। হঠাৎ করে গরমে আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ও হপার পোকার আক্রমণ বেশি থাকায় গুটিগুলো ঝরে পড়ে। কীটনাশক স্প্রে করেও পোকা দমন করা যায়নি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হপার পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাগান ও গাছের গোড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নিয়মিত বাগানে সেচ দিতে হবে। নিয়মিত বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে পোকা দমন সম্ভব হবে।’

তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে ২,২০৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান আছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩০ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ধরা হয় ১২২ কোটি। বাগানগুলোয় আম্রপালি, হিমসাগর, বোম্বাই, ল্যাংড়া, বারি-৪, কাটিমনসহ বিভিন্ন জাতের আম আছে। জেলার চারটি উপজেলায় প্রায় ৫৫০টি ছোট-বড় আম বাগান আছে।

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন