ঢাকা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে রাতভর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর থেকে আন্দোলনের মূল দাবি ধর্ষণচেষ্টার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনেও নতুন মোড় নেয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় ওই ঘটনা ঘটনার পর দিন দুপুরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিস ও রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আট দফা দাবি তোলে।

পরে এদিন রাতে প্রক্টর অফিসের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই মুহূর্তেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে হলে ফেরার সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিছু নেয়। পরে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে কথা বলতে শুরু করে। একপর্যায়ে কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে তাকে নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে আতঙ্কিত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে প্রক্টর অফিস ও রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত বিচার, নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নির্জন এলাকায় আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, রাতের টহল জোরদার ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন চালুসহ আট দফা দাবি তোলে।

বুধবার রাতেও প্রক্টর অফিসের সামনে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। নারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সেখানে ছিলেন অসংখ্য পুরুষ শিক্ষার্থীও।
শুরুতে আন্দোলনের মূল দাবি ছিল ধর্ষণচেষ্টার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্য (ভিসি) ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই মুহূর্তেই আন্দোলনের ভেতরে তৈরি হয় বিভক্তি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আফ্রিদি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে। ভেবেছিলাম আজকের কর্মসূচি থেকে আমরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো, প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা সেই নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরবো।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এখানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কিছু শিক্ষার্থী আজকের কর্মসূচিতে ভিসি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। কিন্তু আমরা কারও পদত্যাগের উদ্দেশে এখানে আসি নাই। আমাদের আজকের কর্মসূচিকে তারা ভিন্নদিকে নিতে চেষ্টা করছে।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুন বলেন, আমরা মেয়েদেরকে হল থেকে ডেকে নিয়ে আজকের কর্মসূচিতে এসেছি। কিন্তু আজকের কর্মসূচিকে অনেকে তাদের রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীরা এটি হতে দিবো না।
তবে ভিসি, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করা ছাত্রফ্রন্ট নেতা তানজিল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা ব্যর্থ প্রশাসনের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো জায়গা নেই। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনের।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন।
রাশেদ প্লাবন/এনডি/এএস



