ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। এরপর থেকেই ছাত্রদলের শীর্ষ পদগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনতে দলীয় হাইকমান্ডের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি।
২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন নাসির উদ্দিন নাসির। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দলীয় অঙ্গনজুড়ে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ, লবিং ও আলোচনা। পাশাপাশি শুরু হয়েছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ ও তদবির।

নতুন কমিটির সভাপতি পদের জন্য বেশ কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে— তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম এবং এজাজুল কবির রুয়েল।
এছাড়া সভাপতি পদে জোরালো আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন।
আর সাধারণ সম্পাদক পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মাসুম বিল্লাহ, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, শামীম আখতার শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল এবং তারেক হাসান মামুন।
দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কমিটি গঠনে সাংগঠনিক দক্ষতা, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ‘সুপার ফাইভ’ পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পদপ্রত্যাশী নেতারা জানান, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি যে দায়িত্বই দেবেন, সবাই তা স্বাচ্ছন্দ্যে মেনে নেবেন।
মূলত রাজপথের নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা থেকেই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। সব মিলিয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। এখন কেবলই হাইকমান্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
পিএস/এএস



