কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘এ-থ্রি’ ব্লকে একটি মাদ্রাসায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিহতদের মধ্যে সাতজনই শিশু, তারা সবাই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহত অপর একজন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ব্লক ১১ এর বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩), ক্যাম্প-৩ এর আবদুস শুক্কুরের মেয়ে উম্মে সালমা (১২), ব্লক- ৮ এর মোহাম্মদ ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)। বাকি নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে ৪ জন, ক্যাম্প-৩ এর জিকে হাসপাতালে ২ জন, ক্যাম্প-৬ এর আইআরসি হাসপাতালে ১ জন এবং ক্যাম্প-৫ এর ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে ১ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা ৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
পাহাড়ধসে আহতরা হলেন— ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা (৯), নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫), ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
উখিয়ায় দায়িত্বরত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ক্যাম্প-৫-এর ইরানি পাহাড় এলাকায় অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে সাত ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বয়স আনুমানিক ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৩ জন শিশু শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত বাকি ৫ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেষ হয়। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন আরআরআরসি কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাটি ভরাট করে পাহাড়ের ঢালে মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে হঠাৎ ধসে পড়লে ভবনটি মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে।
ওএনবি/শাহজাহান চৌধুরী শাহিন/এএস



